Cookie Policy          New Registration / Members Sign In
PrabashiPost.Com PrabashiPost.Com

দশভূজা

আকাশে সাদা মেঘের আনা গোনা, নদীতীরে কাশফুলের সমারোহ, ভোরের হাওয়ায় শিউলির সুগন্ধ, পুজোর আর দেরী নেই।

Dilip Das
Mon, Sep 22 2014

All sketches by Manideepa Das

About Dilip

A public health physician in New Zealand, Dilip Das hails from a village in West Bengal’s Burdwan district. His literary interests include writing ‘belles-lettres’ (রম্য-রচনা) and short stories. He is the Joint Editor of Ankur. Please click here for the latest issue of ‘Ankur’


More in Culture

Happy Colours of Life

Durga Puja in London: The UnMissables

Mahishasura Mardini

একা বোকা

 
শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের আনা গোনা, দূর দিগন্তে মিলিয়ে যাওয়া বকের সারি, কলস্বিনী নদী তীরে কাশফুলের সমারোহ, সবুজ ধান ক্ষেতে বাতাসের হিল্লোল, ভোরের হাওয়ায় শিউলির সুগন্ধ - প্রকৃতিই বলে দিচ্ছে পুজোর আর দেরী নেই। এইরকম মাঝামাঝি আশ্বিনের এক বিকেলে বিশ্বম্ভর চক্রবর্ত্তীর নাতনি বকুল বললে, দাদু, আমার সই শেফালি বলছিল ঘোষপাড়ার দুর্গা ঠাকুরের গায়ে রং দেওয়া শেষ হয়ে গেছে - ও আজ সকালে দেখে এসেছে। বিকেলে ঠাকুরকে ডাকের সাজ পড়াবে। আমাকে দেখতে নিয়ে চল।” দাদু বললেন, “বেশতো, দাদুভাইকেও নিয়ে যাব। মাকে বল তোদের জামাকাপড় বদলে তৈরী করে দিতে।”

চক্রবর্ত্তী প্রবীণ, নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ। আগে কোন এক সওদাগরী অফিসে চাকরি করতেন। বছর দুই আগে অবসর নেওয়ার পর এখন হাতে অনেক সময়। কলকাতার কাছেই এক গ্রামের পৈত্রিক বাড়িতে গৃহিণী, ছেলে-বৌমা, নাতি-নাতনি, একটি দুধেলা গাই বুধি, তার বাছুর সোম আর একটি টিয়াপাখি গঙ্গারামকে নিয়ে তাঁর স্বচ্ছল, জমজমাট সংসার। ছেলে ব্যাঙ্কে কাজ করে। বছর সাতেকের নাতনি বকুল, তিন বছরের নাতি তপু, পুজো-পাঠ, বাজার-হাট, গোসেবা আর সংসারের টুকিটাকি কাজ - এই নিয়ে দিনগুলো তাঁর ভালই কেটে যায়।

বকুলের মা তার দুই ছেলেমেয়েকে একটু পরিচ্ছন্ন করে জামাকাপড় বদলে দিল। শরতের সোনালী বিকেলে দুই ভাইবোন নাচতে নাচতে দাদুর সাথে ঠাকুরগড়া দেখতে গেল। তাদের আনন্দ দেখে কে! পথে ভুবন বৈরাগীর সাথে দেখা। সে আপনমনে একতারা বাজিয়ে যাও, ‘যাও গিরি, আনিতে গৌরী... ...’ আগমণী গান গাইতে গাইতে চলেছে।

 ‘যাও যাও গিরি, আনিতে গৌরী...’
(অঙ্কনে - মণিদীপা দাস)


যেতে যেতে বকুল দাদুকে এটা শুধায়, ওটা শুধায়। সে জিজ্ঞাসা করল, “দাদু, দুর্গা ঠাকুরের দশটা হাত কেন?” দাদু বলল, “শুধু দুটো হাত দিয়ে অসুরের সাথে যুদ্ধ করে পেরে উঠত না বলে ব্রহ্মাঠাকুর তাকে দশটা হাত দিয়েছিল। অন্য অনেক ঠাকুর তাদের শক্তিশালি অস্ত্রগুলো দুর্গা ঠাকুরকে দিয়েছিল যাতে দশহাতে দশটা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে অসুরকে হারিয়ে দিতে পারে। অসুর খুব বদ ছিল আর ঠাকুর দেবতাদের খুব জ্বালাতন করছিল। দুর্গা ঠাকুরই তো দশহাতে যুদ্ধ করে অসুরকে হারিয়ে দিল।” দাদুর কাছে দুর্গা আর অসুরের যুদ্ধের গল্প শুনতে শুনতে দুই ভাইবোন ঠাকুরতলায় উপস্থিত হল। সেখানে তখন তাদের মত অনেক ছেলেমেয়েই ভীড় করেছে ঠাকুরগড়া দেখতে।

চরণ ঘোষ বিশ্বম্ভরের ছেলেবেলার বন্ধু। তার বাড়ি দুর্গামন্ডপের পাশেই। বিশ্বম্ভরকে দেখতে পেয়ে চরণ বাইরে এল – দুর্গামন্ডপের চাতালে দুই বৃদ্ধ বন্ধুর গল্প জমে উঠল। একসময় চরণের মেয়ে মালতী দু’জনকে চা দিয়ে গেল। ও গতকালই বাপের বাড়ি এসেছে। একটু পরে বকুল আর তার সমবয়সী টুনি (চরণ ঘোষের নাতনি) এসে বলল, “দাদু, আমরাতো এখানে, মামার বাড়ীতে, পিসিমার বাড়িতে – সব জায়গায় দেখেছি দুর্গা ঠাকুরের দশটা হাত। কিন্তু পল্টুদাদা বলছে দুর্গা ঠাকুরের আটটা হাতও হয়। ও আট হাতের দুর্গাঠাকুর দেখেছে। সত্যি দাদু, আট হাতওয়ালা দুর্গা ঠাকুরও হয়?”

পল্টু চরণ ঘোষের নাতি – মালতীর ছেলে – বছর দশেক বয়স। বাবা রেলে কাজ করে। সেই সুবাদে এই বয়সেই ওর দেশের অনেক জায়গা ঘোরা হয়ে গিয়েছে। তার পর্যবেক্ষণ শক্তি বেশ প্রখর। সে বলল, “হ্যাঁ দাদু, গতবার যখন উত্তর ভারত বেড়াতে গিয়েছিলাম তখন লক্ষ্ণৌতে আমি আট হাতওয়ালা দুর্গা ঠাকুর দেখেছি। ঠাকুর সিংহ নয়, বাঘের উপর বসেছিল। আচ্ছা দাদু, এই দুর্গাঠাকুরের কোথাও দশটা হাত, আবার কোথাও আটটা। এরকম হয় কেন? একরকম হতে পারে না?” চক্রবর্ত্তীও উত্তর ভারত, পশ্চিম ভারতে অষ্টভূজা, ব্যাঘ্রাসনা দেবীমূর্ত্তি দেখেছেন। কিন্তু শিশুমনে যে প্রশ্নের উদয় হয়েছে তা তার প্রাজ্ঞ মস্তিস্ক কোনদিন চিন্তা করে দেখেনি। তিনি পল্টুকে বললেন, “দাদুভাই, তুমি ঠিকই দেখেছ। আট হাতের দুর্গাঠাকুরও হয়। কিন্তু কেন ঠাকুরের এক জায়গায় দশ হাত আর অন্য জায়গায় আট হাত তাতো জানিনা। আচ্ছা, একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখি। যদি কোন উত্তরের সন্ধান পাই তো বলব।”

এদিকে সন্ধ্যা হয় হয়। বাড়ি ফেরার সময় হল। কিন্তু তপু কিছুতেই ঠাকুরতলা ছেড়ে বাড়ি যেতে চায় না। অল্প সময়ের নতুন অভিজ্ঞতার স্বল্প আনন্দে তার নবীন চোখ ও মনের পূর্ণ তৃপ্তি হয়নি। সে আরো দেখতে চায়। আগামীকাল আবার তাকে ঠাকুর গড়া দেখতে নিয়ে আসা হবে এবং একটা লাল বল কিনে দেওয়া হবে এই আশ্বাস দেওয়ায় সে বাড়ী যেতে রাজী হল। যাবার সময় মালতী সব ছেলেমেয়েদের হাতে একটা করে নাড়ু দিল। নাতি-নাতনিকে নিয়ে চক্রবর্ত্তী যখন বাড়ী ফিরলেন তখন পুকুরপাড়ে বাঁশঝাড়ের মাথায় তৃতীয়ার একফালি চাঁদ।

শিশু মনের উপযোগী একটা উত্তরের সন্ধানে সারা সন্ধ্যাটা দশভূজা-অষ্টভূজা দ্বন্দ্ব চক্রবর্ত্তীর মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগল। তিনি সন্ধ্যাহ্নিকে অন্যান্য দিনের মত মনোনিবেশ করতে পারলেন না। ভাবলেন আগামীকাল তাঁর আর এক বন্ধু ভূজঙ্গ ভট্টাচার্য্যিকে দ্বন্দ্বটা বলবেন। ভট্টাচার্য্যির শাস্ত্রজ্ঞান তাঁর থেকে অনেক বেশী – সে যদি শিশুমনের উপযোগী কোন ব্যাখ্যা দিতে পারে। রাত্রে খাওয়া-দাওয়ার পর মাথায় এইসব চিন্তা-ভাবনা নিয়ে শয়নে পদ্মনাভকে স্মরণ করে ঘুমোতে গেলেন।

গভীর রাত্রে তিনি এক দীর্ঘ, অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলেন। প্রাক্‌পৌরাণিক যুগের অনেক ঘটনাবলী তাঁর মনশ্চক্ষে দিনের আলোর মত পরিস্কার প্রতিভাত হল। স্বপ্নে তিনি চলে গেলেন এমন অতীতে যখন মহিষাসুরের উত্থান হয়নি। তিনি দেখলেন কৈলাসে পার্বতী আর পাঁচটা সাধারণ বাঙালি মেয়ের মত দুটো হাত দিয়েই ঘর-সংসার সামলাচ্ছেন। বছর তিনেক হল গণেশ হয়েছে, অন্য সন্তানেরা তখনও অনাগত। সকালবেলায় কৈলাসে ঝক ঝকে রোদ উঠেছে। কিছুক্ষণ আগে শিব কি একটা কাজে বেরিয়ে গেছেন।

পার্বতী ‘হরগৌরী নিবাস’এর উঠোনে রোদে বসে বড়ি দিচ্ছেন। গণেশ মায়ের চারদিকে ঘুরঘুর করছে। দুধ খেতে চায়নি বলে মা কিছুক্ষণ আগে তাকে একটু বকেছে। মা চুপ করে আছে দেখে গণেশ ভেবেছে মা বুঝি তার উপর রাগ করেছে। সে দেখেছে বাবা রেগে গেলে মা ঘরের কোণে রাখা ঘড়া থেকে জল নিয়ে বাবার মাথায় ছিটিয়ে দেয়, আর তাতেই বাবার রাগ পড়ে যায়। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই পার্বতী আবিষ্কার করেছেন শিব একটুতেই রেগে যান। তবে সেই সময় তাঁর মাথায় একটু গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিলেই শান্তি – সব রাগ গলে জল। তাই পার্বতী গঙ্গোত্রী থেকে একঘড়া গঙ্গাজল আনিয়ে ঘরে রেখে দিয়েছেন। কখন দরকারে লাগে বলা যায় না!

একসময় গণেশ ঘরে ঢুকল। ঘড়া থেকে চুপি চুপি শুঁড়ে করে গঙ্গাজল নিয়ে এসে মায়ের মাথায় ছিটিয়ে দিল – যাতে মায়ের রাগ পড়ে। আর তাতেই বিপত্তি। কিছু জল বড়িতে পড়ল। মায়ের রাগতো জল হলই না, উলটে তাঁর সব কাঁচা বড়ি গলে জল। শুঁড়ে করে জল ছড়ানোর এই খেলাটা গণেশ নতুন শিখেছে। খুব আনন্দ ওর তাতে। এদিকে তার নতুন নতুন দুষ্টুমিতে মায়ের প্রাণ ওষ্ঠাগত!

স্বপ্নে চক্রবর্ত্তী দেখলেন সংসারের এইরকম খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে মাঝে মাঝেই শিবের সাথে পার্বতীর ঝগড়া হচ্ছে। সন্ধ্যাবেলায় বাড়ী ফিরলে পার্বতী শিবকে বলছেন, “তুমি সারাদিন গাঁজাভাং খেয়ে, ভুতপ্রেত নিয়ে, শ্মশানে-মশানে থাকো, সংসারের কোন খবরই রাখো না। এদিকে এই ছেলেকে নিয়ে আমি আর পেরে উঠছি না। যা দুরন্ত হয়েছে গণেশ! বছর দুই আগে বাপের বাড়ী থেকে ফেরার সময় উত্তরবাংলার এক গাঁ থেকে একটি কাজের ‘মাসি’ এনেছিলাম। সে গণেশকে বেশ দেখাশোনা করছিল। কিন্তু তার আবার কৈলাসের এই ঠাণ্ডা বেশী দিন সহ্য হল না। গতবার গাজনের সময় তুমি তাকে তার গাঁয়ের বাড়ীতে রেখে এলে। এখন এই দামাল ছেলে, ঘরসংসার – সবদিক সামালাই কি করে? আমার যদি চারটে হাত থাকত তা হলে না হয় কিছুটা সুবিধা হত।” শিব পার্বতীর এইসব অভিযোগ, গঞ্জনা কোন উচ্চবাচ্য না করেই সহ্য করে গেলেন।

 যা দুরন্ত হয়েছে গণেশ !
(অঙ্কনে – মণিদীপা দাস)


পরের দিন ব্রহ্মলোকে কি একটা ব্যাপারে ব্রহ্মার সাথে শিব ও বিষ্ণুর জরুরী পরামর্শ চলছে। আগের দিন পার্বতীর গঞ্জনায় শিব খানিকটা মনমরা হয়ে আছেন। তাই দেখে ব্রহ্মা জিজ্ঞাসা করলেন, “মহেশ্বর, তোমাকে মনমরা দেখছি কেন? চোখমুখ শুকনো। রাত্রে ভাল ঘুম হয়নি বুঝি?” শিব ব্রহ্মাকে গণেশের দুরন্তপনা আর সাংসারিক অশান্তির কথা খুলে বললেন। সবশুনে ব্রহ্মা বললেন, “গণেশ শিশু, সে তো দুরন্ত হবেই। আমি ভাবছি কি করা যায়। তোমাদের জন্য পুনরায় কাজের লোকের ব্যবস্থা করা একরকম অসম্ভব। ব্রহ্মলোক, দেবলোক, গন্ধর্বলোক – কোথাও কোন অভাব নেই বলে কাজের লোক মিলবে না। আবার মর্ত্যলোক থেকে কাউকে নিয়ে এলে কৈলাসের ঠাণ্ডা তার সহ্য হবে না। তবে আমি অন্য একটা ব্যবস্থা করতে পারি। পার্বতী যখন নিজে থেকে চারটে হাতের কথা বলেছে তখন ওকে আমি চতুর্ভূজা করে দিতে পারি। আর এমন ব্যবস্থাও করে দিতে পারি যে এর পর যখনই তোমাদের একটি করে সন্তান জন্মাবে, তখনই আমার বরে ওর আরো দুটো করে হাতও গজাবে। আবার ভবিষ্যতে কাজের চাপ কমলে-বাড়লে যতগুলি প্রয়োজন ততগুলি হাতই থাকবে।” শিব দেখলেন ব্যবস্থাটা মন্দ নয়। আর কৈলাসে ফিরে পার্বতীকে বলতে তিনিও রাজী হয়ে গেলেন।

এই ব্যবস্থায় পার্বতীর একটি করে ছেলেমেয়ে হয় আর তাঁর দুটি করে হাত গজায়। এইভাবে যখন চারটি সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার পূর্ণ হল তখন তিনি দুটি পিতৃদত্ত আর আটটি ব্রহ্মদত্ত হাত নিয়ে দশভূজা হলেন। চক্রবর্ত্তী স্বপ্নে অষ্টভূজা-দশভূজা দ্বন্দ্বের একটা উত্তর পেয়ে গেলেন। নাতি-নাতনিদের কাছে গল্প করার একটা ভাল বিষয় হল।

চক্রবর্ত্তীর স্বপ্নদর্শন কিন্তু এখানেই শেষ হল না। পরবর্ত্তী পর্বে মহিষাসুরের আবির্ভাব হল। তার অত্যাচারে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল এই ত্রিভুবনে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠল। কেউ তাকে বাগে আনতে পারে না। সে দেবতাদের স্বর্গছাড়া করল। দেবতারা তখন একযোগে ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলেন। ব্রহ্মা দেখলেন তাঁর বরেই মহিষাসুর বলীয়ান। তাঁর পক্ষে বর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। দেবতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি তখন বৈকুণ্ঠে গেলেন বিষ্ণুর সাথে পরামর্শ করতে। বৈকুণ্ঠে তখন শিবও উপস্থিত। মহিষাসুরের অত্যাচার আর ত্রিলোকের দুর্দশার কথা শুনে বিষ্ণু বললেন, “চল, আমরা সবাই দেবী পার্বতীর শরণাপন্ন হই। তিনিই পারবেন দেবতাদের রক্ষা করতে। ব্রহ্মার বরে তিনি এখন দশভূজা। আমাদের অস্ত্রভাণ্ডার থেকে বাছাই করে শ্রেষ্ঠ দশটি অস্ত্র তাঁকে প্রদান করি। এই দশপ্রহরণধারিণীই হবেন মহিষাসুরমর্দিনী – আমাদের সকলের পরিত্রাত্রী।” দেবতারা স্তব-স্তুতিতে দেবীকে সন্তুষ্ট করে মহিষাসুরের সাথে যুদ্ধে রাজী করালেন। বিষ্ণু তখনই দেবীকে সুদর্শন চক্র দিলেন। শিব দিলেন ত্রিশূল। অন্যান্য দেবতারা কেউ বর্ম, কেউ খড়্গ ইত্যাদি নানা প্রহরণে দেবীকে ভূষিত করলেন। তারপর দেবীর সাথে মহিষাসুরের প্রবল যুদ্ধ শুরু হল। তাঁদের রণহুঙ্কারে ত্রিভুবন কম্পিত হতে লাগল। অনেকক্ষণ যুদ্ধের পর এক সময় দেবী খড়্গের এক কোপে মহিষাসুরের মুণ্ডচ্ছেদ করলেন। ঠিক তখনই চক্রবর্ত্তীর ঘুম ভেঙ্গে গেল।

পর দিন সকালে বকুলকে তিনি রাত্রের স্বপ্নের কথা বললেন। সব শুনে বকুল বলল, “দাদু, তুমিতো রোজ সকালে সংস্কৃত মন্ত্র পড়ে পড়ে ঠাকুরদের কত কিছু বল। ব্রহ্মাঠাকুরকে বল না আমার মায়ের আরো দুটো হাত করে দিতে। মা বলছিল আমার ভাইটা যা দস্যি হয়েছে যে তাকে আর সামলাতে পারছে না।” দাদু বললেন, “ছোটবেলায় তোর বাবাও খুব দস্যি ছিল। তোর ঠাকুরমা আর আমি তাকে সামলেছি।’ আর বকুলকেই দেখিয়ে বললেন, “দাদুভাইয়ের তো খেলার সঙ্গী এই একটা এত্তোবড় দিদিও রয়েছে। আমরা তিন’জনে আর তোর মা মিলে দাদুভাইকে ঠিক সামলাব। তোর মায়ের আরো দুটো হাতের দরকার হবে না।”
Please Sign in or Create a free account to join the discussion

bullet Comments:

 
Kajari Guha (Tuesday, Sep 23 2014):
dasha bhuja-r eto sundar explanation bodhhay aar khunje paoa jabe na!Many many thanks for such a nice write-up!
 
Dilip Das (Tuesday, Sep 23 2014):
Dear Rajshekharbabu Thank you very much for your appreciative comment. I am happy that my story could take you to your childhood days. This is my reward. Dilip Das
 
Rajshekhar Banerjee (Monday, Sep 22 2014):
Many thanks for this article. It is very engaging. Also like the sketches. It takes me back to childhood days when we used to long for Durga Puja. Today being Mahalaya it's an apt tribute to the bygone days.
 

 

  Popular this month

 

  More from Dilip

PrabashiPost Classifieds



advertisement


advertisement


advertisement